শেখ হাসিনা
সম্প্রতি ডানপন্থী এক পত্রিকার সম্মানিত সম্পাদক বলেছেন, ভারতে আশ্রিত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভীতু। দেশে ফিরবেন বলে তার মনে হয় না। যদিও সম্পাদক ভদ্রলোক নিজেও প্রচন্ড ভীতু।
বাংলাদেশের আনুমানিক ৯০ শতাংশ সম্পাদক বা সাংবাদিক খাদে পড়া হাতিকে লাথি মেরে বীরত্ব দেখাতে পছন্দ করেন। এটা প্রথম দেখতে পাই ১/১১-এর সময়। তখন আমি বিশ্বমানের সাংবাদিকতার স্বপ্নে বিভোর।
নিউ এইজ সম্পাদক নুরুল কবির ছাড়া বাকি সবাই এক সুরে দুই নেত্রীকে খলনায়ক বানাচ্ছিলেন। যদিও শেখ হাসিনা ক্ষমতায় গিয়ে সেই সংবাদমাধ্যমকেই কাজে লাগিয়ে দুই এর জায়গায় এক হিসাব করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সম্মানহানির আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যান।
ডানপন্থী সম্পাদক তার ব্যতিক্রম হবেন কী করে? কোন সম্পাদকের কত সাহস তার একটু ধারনা আমার আছে।
আর শেখ হাসিনা ভীতু হতেই পারেন। কারণ তাঁর পরিবারের ঘটনা তাকে ভীতু করেছে। সাথে করেছে প্রচন্ড প্রতিহিংসা পরায়ণ। তাঁর মুরিদরাও হয়েছে তা-ই।
তবে আমার কাছে এখন পর্যন্ত যে তথ্য আছে, তা বলছে ৯৫ ভাগ সম্ভাবনা তিনি ডিসেম্বর নাগাদ বাংলাদেশে ফিরে আসার চেষ্টা করবেন। ইতোমধ্যে তিনি তার লোকজনকে দেশে ফেরত যাবার নির্দেশ দিয়েছেন। যতটুকু জানছি তার মূল কারণ- ভারতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের চলাচলে প্রতিবন্ধতা দেখা দিচ্ছে।
এখন প্রশ্ন হলো, তিনি আসলেই ফিরবেন? আইনগত ভিত্তি কী হবে, নাকি বর্তমানে চলা পুশইনের মতো কোন ঘটনা ঘটবে? নাকি গভীর রাতে শত শত নেতা কর্মীর উপস্থিতিতে হঠাৎ দুর্বল চুয়াডাঙ্গা বর্ডার ভেঙে উপস্থিত হবেন, তা সময় বলতে পারবে।
আমার মতামত হলো- বাংলাদেশের সাথে চীনের সম্পর্ককে চ্যালেঞ্জ করতে পশ্চিমা বন্ধুরা ও ভারত এটা চাইতে পারে। আমি ভারত হলে ভাবতাম, কেন তাঁকে দীর্ঘদিন আশ্রয় দিব? তাছাড়া তিস্তা ব্যারেজ এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তা ছাড়া যখন আমার (ভারত হলে) সুযোগ আছে-
১. এটা প্রমাণ করা- আওয়ামীপন্থীদের খুশি রাখা
২. জুলাইপন্থীদের বিচার পাবার আকাঙ্ক্ষা পূরণের সুযোগ সৃষ্টি করা
৩. দল হিসেবে দীর্ঘমেয়াদে আওয়ামীরা টিকে থাকতে ভরসা কেবলই শেখ হাসিনা। উনি না চাইলে কারো ক্ষমতা নাই ঐ দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করার। ওয়ান ইলেভেনই তো সম্ভব হয়নি আর হবেও না।
তাছাড়া জুলাইয়ের কথিত চেতনার জামাতিকরণ সমাজকে ইতোমধ্যেই বহুভাগে ভাগ করেছে। বলতে পারেন, সমাজের বৃহত্তর হতাশ প্রজন্মের এখন জুলাই নিয়ে ২০২৪ বা ২৫ সালের মতো ঐক্যবদ্ধ নেই। কার্যত ধর্মভিত্তিক একটি দল এবং তাদের পালিত "নিরপেক্ষ" সুশীল সমাজ ধ্বংস করেছে।
আর জুলাইয়ের মধ্যে যে সুবিধাবাদী অভিজাত সুশীলদের ভাগাভাগি, আর কথিত সংস্কারে নামে "ভারসাম্য" তৈরির বয়ান যে রেজিম চেঞ্জের বাটন তৈরির অপচেষ্টা বা দ্বৈত শাসন কায়েমের চেষ্টা, তা এখন অনেকটাই প্রকাশ্য।
সর্বোপরি, বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে তা আরও দুর্বলতা সৃষ্টি করেছে। ৫ আগষ্টের পর, বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের মধ্যে যারা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন, তারা এখন ফুরফুরে মেজাজে। ভিসাও করে রাখার পরিকল্পনা করেছেন অনেকে। আর যারা ত্যাগী নেতা এবং ভেবেছিলেন যে, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে তারা ভালো করবেন বা ভালো জায়গায় বসবেন, তাদের কেউই সেই সুযোগ পাননি।
অন্যদিকে, গরীবের ফতেল্লা গুলান তাদের তালবে এলেম তথা হাসান নাসির বা দিলারা চৌধুরীদের সাথে পরামর্শ করছেন। খোঁজ নিয়ে দেখেছে, ফরাসি পীরের বদৌলতে ও কথিত এন্টি ইন্ডিয়ান সেন্টিমেন্ট কে কাজে লাগিয়ে সেনানিবাস সংলগ্ন এলাকায় তাদের ভোট সংখ্যা ভীষণকাধারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা হয়তো ভাবছেন, তাদের শরিয়া কায়েমের আকাঙ্ক্ষা পূরণে তারা সহায়ক হয়ে উঠতে পারেন।
সাথে তো আমার দুলাভাই হাসিন ভাই তথা 'অব.' পার্টি + গোফওয়ালা ইব্রাহীম সাহেবরা তো নতুন করে খিলাফাতের স্বপ্নে বিভোর। তাই সুবিধাবাদি নাসির চরিত্ররা সরকার ফেলানোর বয়ান তৈরি করে। তাতে আবার ঘি ঢেলেছেন 'অব.' দের মাঝে থাকা এক উপদেষ্টা গ্রুপ ভার্সেস জাতীয়তাবাদী গ্রুপের স্যারেরা।
তাই বলি, এটা রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে দুর্বলতম সময়। তাছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন খুবই দুর্বল হয়ে উঠবে। "হাটাবাবার" উপর আস্থা রাখা তো গণতান্ত্রিক পদ্ধতিকে শক্তিশালী করা নয়।
তাছাড়া পুলিশের সার্কাসের মত যে ড্রেস দেওয়া হয়েছে, তাতে মনোবল বৃদ্ধির বদলে পরবর্তীতে প্রয়োজনের সময় পুলিশের চেইন অব কমান্ড আদৌ টিকবে কিনা, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
বর্তমান সরকার অনেক কাজ করলেও জনগণের বন্ধন তৈরিতে কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়নি। এটা হয়তো সরকারের জামায়াততোষণের ফল। তবে মনে রাখবেন, সুশীল সমাজের মতো জামায়াতের বাটন কিন্তু তাদের হাতে থাকে না। বলতে পারেন গরীবের ফতুল্লা গোলেন।
আমরা যারা দর্শক তাদের কাজ হলো, দেখতে থাকা।

