Logo
Logo
×

জাতীয়

আবু সাঈদ হত্যায় দুই পুলিশের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:৪১

আবু সাঈদ হত্যায় দুই পুলিশের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন

শহীদ আবু সাঈদ, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরের রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে। - ফাইল ছবি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রতীক হয়ে ওঠা রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।  এ ছাড়া পুলিশেরই তিন কর্মকর্তার যাবজ্জীবন সাজা হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত দুজন হলেন—এএসআই (সশস্ত্র) আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। তারা দুজনই গ্রেপ্তার রয়েছেন।

আর যাবজ্জীবন সাজা পাওয়া তিনজন হলেন—তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালী জোন) আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন ও এসআই বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করে। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মামলায় মোট ৩০ আসামির সবারই সাজা হয়েছে। বাকি ২৫ আসামির মধ্যে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হয়েছে ৫ জনের, পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হয়েছে ৮ জনের এবং ১১ জনের ৩ বছরের সাজা হয়েছে। অপর একজনের হাজতবাসের সময়কে দণ্ড হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

দণ্ডিতদের মধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন ছয়জন। রায় ঘোষণার সময় তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন—এএসআই আমির হোসেন, সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল ও প্রক্টর অফিসের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ।

মামলার বৃত্তান্ত

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ নিহত হন।

সেদিন দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা আবু সাঈদকে পুলিশের গুলি করার ভিডিও সংবাদ মাধ্যমে প্রচার হলে ছাত্র-জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। পরদিন থেকে সারা দেশে ডাকা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করা হয়।

এরপর বিক্ষোভে দমন-পীড়ন আর সহিংসতার মধ্যে ১৯ জুলাই কারফিউ দিয়েও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি শেখ হাসিনা সরকার।

তুমুল গণআন্দোলনের মধ্যে ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগের টানা সাড়ে ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান।

অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই অভ্যুত্থানে দমন-পীড়নকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের উদ্যোগ নেয়। এরপর আবু সাঈদের মামলাও ট্রাইব্যুনালে আসে।

ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে আবু সাঈদ হত্যার সঙ্গে ৩০ জনের সম্পৃক্ততার বিষয় উঠে আসে। ২০২৫ সালের ২৪ জুন ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলির কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা।

এরপর ৩০ জুন অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পলাতক থাকা ২৪ আসামির জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চারজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়।

ওই বছরের ৬ অগাস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এই মামলার বিচারকাজ শুরু করে ট্রাইব্যুনাল-২। গত ২১ জানুয়ারি থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রসিকিউশন এবং ২৭ জানুয়ারি আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। এরপর গত ৫ মার্চ রায়ের দিন ঠিক করেছিল ট্রাইব্যুনাল।

Logo

অনুসরণ করুন