সাভার মডেল থানায় যোগদানের মাত্র এক মাসের মাথায় অপরাধ দমন ও দৃশ্যমান সাফল্যের স্বীকৃতি পেলেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম। আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, মাদক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারসহ বিভিন্ন সফল অভিযানের জন্য তিনি ঢাকা জেলার ‘শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ (ওসি)’ নির্বাচিত হয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁর নেতৃত্বে দীর্ঘদিন পর সাভার থানার আরও ছয়জন কর্মকর্তা বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সম্মাননা অর্জন করেছেন।
ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মাসিক কল্যাণ সভায় ওসি সাইফুল আলমের হাতে এ সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
গত ৩১ জুলাই সাভার থানায় দায়িত্ব নেওয়ার পরই নিরাপত্তা জোরদারে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে পুলিশ। জানা যায়, তাঁর প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে পরিচালিত ২৩টি বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ চোরাই যানবাহন, মাদকদ্রব্য এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এছাড়া নাশকতার পরিকল্পনাকারী ৪০ জনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি উদ্ধার করা হয় চোরাই মালামাল ও মুঠোফোন। উদ্ধারকৃত এসব সামগ্রীর আনুমানিক বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ কোটি ৬৫ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।
অপরাধ দমনের পাশাপাশি সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতেও তৎপর ভূমিকা দেখিয়েছেন এই কর্মকর্তা। বিশেষ করে স্থানীয় দুই প্রভাবশালী ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব—পীর তৈয়ব খান এবং পীর কাজী জাবের আল জাহাঙ্গীরের মধ্যকার দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব নিরসনে উদ্যোগ নিয়ে তিনি এলাকায় সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনেন। এছাড়া দায়িত্ব পালনকালে ৩৯টি মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের (মোবাইল কোর্ট) মাধ্যমে ৩৩৩ জনকে আইনগত শাস্তির আওতায় নিয়ে আসেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ঢাকা জেলায় যোগদানের পর থেকেই ধারাবাহিক দক্ষতার পরিচয় দিয়ে আসছেন সাইফুল আলম। গত নয় মাসে এ নিয়ে তিনি মোট চারবার জেলার শ্রেষ্ঠ ওসির স্বীকৃতি পেলেন। সাভারে আসার ঠিক আগের মাসেও তিনি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি হিসেবে শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তা নির্বাচিত হয়েছিলেন। উল্লেখ্য, সাভার থানা বিগত আট মাস কোনো স্বীকৃতি না পেলেও সাইফুল আলমের দায়িত্ব গ্রহণের পর এবার তাঁর নেতত্বেই মোট সাতজন পুলিশ সদস্য বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে জেলার সেরা পুরস্কার পেলেন।
এমন সাফল্যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ওসি সাইফুল আলম জানান, এই স্বীকৃতি সাভার থানার প্রতিটি পুলিশ সদস্যের নিরলস পরিশ্রম ও টিমওয়ার্কের ফল। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এলাকাকে অপরাধমুক্ত রাখতে তিনি ভবিষ্যতেও সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
